কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ক্রাইমবিডি ৩৬০ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ফাইল ফটো
ঢাকা এনসিসি ব্যাংকের (NCC Bank) চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার জালিয়াতি ও শত শত কোটি টাকার বেনামী ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা চরমভাবে লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান মইনউদ্দিন মোনেম চিহ্নিত ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও তারা দুজনেই বহাল তবিয়তে নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। তাদের কুকীর্তির সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় পুরো ব্যাংকিং সেক্টরে তীব্র কানাঘুষা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার জালিয়াতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের ভেতরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম। এই সময়ে ব্যাংকের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দিতে গড়ে তোলেন বিশাল নিয়োগ সিন্ডিকেট। এছাড়া ব্যাংকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও কেনাকাটায় ওপেন টেন্ডারের তোয়াক্কা না করে সুনির্দিষ্ট টেন্ডার জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।
শত শত কোটি টাকার বেনামী ঋণ বিতরণ
অভিযোগে জানা যায়, ব্যাংকের প্রধান নীতি-নির্ধারণী পদে থাকার সুবাদে চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট পলিসি ও আর্থিক নীতিমালা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তিনি নিজের এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট চক্রের অনুকূলে শত শত কোটি টাকার বেনামী ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেছেন, যার বড় অংশই এখন ঝুঁকিপূর্ণ বা খেলাপি হওয়ার মুখে পড়েছে। ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ এভাবে বেনামী ঋণের নামে সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঋণ খেলাপি হয়েও বহাল ভাইস চেয়ারম্যান।
এদিকে এনসিসি ব্যাংকের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মইনউদ্দিন মোনেমের বিরুদ্ধে রয়েছে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো চিহ্নিত ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা কোনো নীতি-নির্ধারণী পদে থাকার যোগ্য নন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি এখনও ভাইস চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রহস্যজনক নীরবতা
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের এসব কুকীর্তি এবং আর্থিক অনিয়মের সমস্ত নথি ও ঘটনা প্রকাশিত হবার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক বা সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ব্যাংকিং খাতের সাধারণ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মনে বড় ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। কেন এবং কার ইশারায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হচ্ছে—তা নিয়ে এখন আর্থিক খাতে নানা গুঞ্জন চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এনসিসি ব্যাংকের এই শীর্ষ পর্ষদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা।
এইসব ভয়াবহ জালিয়াতির বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে ক্রাইম বিডির পক্ষ থেকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কারও সাথে ক্যামেরার সামনে বা ফোনে কথা সম্ভব হয় নি।
আর্থিক খাতের এই বড় সিন্ডিকেট ও আমানতকারীদের অর্থ লোপাটের নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত, তা নিয়ে ক্রাইম বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।
মন্তব্য করুন