ডুমনিতে মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার
মন্দিরের পেছনে লেক ব্যবহার করে চলছে মাদক বাণিজ্য।
ক্রাইমবিডি ৩৬০ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
ডুমনির মাদক সিন্ডিকেট: রিপোর্টারকে অভিযুক্ত জাহিদুলের হুমকি, স্ক্রিনশটে থ্রেটের প্রমাণ
রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ডুমনি এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির অন্যতম প্রধান ডিলার হিসেবে ডুমনি টেকপাড়ার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এবং নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘অভিযোগ ডট কম’ প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জাহিদুলের মাদক ব্যবসার পূর্বের মূল কেন্দ্র ছিল বসুন্ধরা এন এক্সটেনশন এলাকা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বর্তমানে তিনি ডুমনি মন্দিরের পেছনের লেক পাড় এলাকাকে প্রধান বিক্রয় কেন্দ্র (স্পট) হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকের চালান নিরাপদ রাখতে জাহিদুল অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গা এবং ময়লার স্তূপের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয় এসব মাদক। পরে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে তা সরবরাহ করতে লেক পাড়ের আশেপাশের নির্জন পকেট এলাকাগুলো ব্যবহার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহিদুলের সিন্ডিকেটে সরবরাহ করা গাঁজার বড় চালানগুলো আসে রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকা থেকে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তল্লাশি এড়াতে এই গাঁজার পেটিগুলো কালো রঙের পলি প্যাকেজে বিশেষভাবে মুড়িয়ে ডুমনিতে আনা হয়। গাঁজার পাশাপাশি জাহিদুল নিজে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত এবং এলাকায় ইয়াবার খুচরা ও পাইকারি সিন্ডিকেটও নিয়ন্ত্রণ করেন বলে তথ্য মিলেছে।
প্রতিবেদককে হুমকি:
এসব অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে নিউজ ডেস্ক থেকে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। উল্টো মাদক ব্যবসার বিষয়ে প্রশ্ন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ক্ষমতা দেখিয়ে এই প্রতিবেদককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা বাধা দিতে এলে জাহিদুল একইভাবে স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ান্দের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে ক্ষমতা দেখান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এই রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে থাকায় স্থানীয়রা প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
ডুমনি টেকপাড়া ও লেক পাড় এলাকায় এভাবে মাদকের বিস্তার চলায় স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে খিলক্ষেত থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন